কেন ওয়ার্ডপ্রেস

শুরুটা স্রেফ ব্লগিংয়ের জন্য হলেও কন্টেন্টম্যানেজম্যান্ট সিস্টেমগুলির মধ্যে শীর্ষাবস্থানে রয়েছে ওয়ার্ডপ্রেস; জিতেছে ২০০৯ এর শীর্ষ সিএমএস অ্যাওয়ার্ড। মনে হয়না এবছর কিম্বা আগামী বছর এই জায়গাটা ফের দখলে নিতে পারবে দ্রুপাল কিম্বা জুমলা। ওয়ার্ডপ্রেসের এত জনপ্রিয়তার কারণ “এটা ওপেনসোর্স পণ্য এবং বিনিপয়সায় পাওয়া যায়” শুধু তা নয়..আবার এটি গত বছরের সেরা সিএমএস নির্বাচিত হয়েছে মানে এই নয় যে ওয়েবসাইট তৈরী মানেই ওয়ার্ডপ্রেস.. এর যেমন কিছু সুবিধা রয়েছে, তেমনি রয়েছে সীমাবদ্ধতা।

প্রথমে ওয়ার্ডপ্রেসের সুবিধা তথা ভাল দিকটা দেখা যাক-

  • ওয়ার্ডপ্রেস খু-উ-ব সোজা। আসলে বলা উচিত ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার সবচে’ সহজ। এক কাপ চা যতটা আরাম করে খাবেন ততটা আরামসে লিখবেন ওয়ার্ডপ্রেসে। এর কন্ট্রোল প্যানেলে আপনার গতিবিধি হবে চায়ে চিনি মেশানোর মতই কিম্বা বিস্কুট ভিজিয়ে নেয়ার মতোই-স্বাচ্ছন্দ্যে। একজন নবীনের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস বুঝতে ক’টা মিনিটের বেশি লাগে না। জুমলার মতো এর এক্সটেনশনের তিন তিনটে নাম/ধরণ নেই-শুধুই প্লাগইন, এর টার্ম গুলো দ্রুপালের মত কাঠখোট্টা ও দুর্বোধ্য নয়। এর কন্ট্রোল প্যানেলে কোনটা কোথায় আছে এবং কোনটা কোন কাজের তা সহজেই বোঝা যায়। এদিক দিয়ে অন্য কোন সিএমএসের বেল নাই ওয়ার্ডপ্রেসের কাছে।
  • যেকোন কন্টেন্ট ম্যানেজম্যান্ট সিস্টেমের তুলনায় ওয়ার্ডপ্রেসের এক্সটেনশন ডাইরেক্টরী অনেক সমৃদ্ধ। সোজাভাবে বল্লে, প্লাগইনের দিক থেকে ওয়ার্ডপ্রেস সেরা। প্রায় ১০,০০০ (জ্বি, প্রায় দশহাজার) প্লাগইন বিনিপয়সায় আপনার সাইটে বিভিন্ন ফাংশন যোগ/বর্ধন করতে সদা নিয়োজিত।
  • একইভাবে প্রায় বারোশো ফ্রী থিম/টেমপ্লেট নিয়ে ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডাইরেক্টরী আপনার সাইটকে কাঙ্খিত চেহারা দিতে প্রস্তুত। এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে অনেক ডিজাইনার বা কোম্পানী তাক লাগানোর মত সব থিম বিনিপয়সায় ছেড়ে দেয়।
  • মূলতঃ ব্লগ লেখালেখির প্লাটফর্ম হলেও প্লাগইন ও থিম ব্যবহার করে সামাজিক সম্পর্ক, গ্যালারী, ই-কমার্স, ম্যাগাজিন, পত্রিকা, পোর্টাল, পোর্টফোলিও, ফোরাম ইত্যাদি যেকোন ধরণের সাইট তৈরী করা যায় ওয়ার্ডপ্রেসে।
  • ওয়ার্ডপ্রেসে নিরাপত্তা তেমন সমস্যা নয়। এর রিলিজ সাইকেল জুমলার মতো “প্রায় অনন্তকাল দীর্ঘ” কিম্বা দ্রুপালের মতো “আঠারো মাস” নয়; ছোট খাট আপডেট রিলিজ হয় প্রায়ই, কখনো একই মাসে, কখনো পরের মাসে। মোটামুটি চারমাস অন্তর অন্তর মেজর আপডেট বের হয়।
  • ওয়ার্ডপ্রেসের সাইট ইন্সটল থেকে আপডেট/আপগ্রেড করা খুউব সহজ। দুয়েক ক্লিকে আপনার ইন্সটলকৃত ওয়ার্ডপ্রেসটি সরাসরি আপডেট/আপগ্রেড হয়ে যাবে। প্লাগইনের ক্ষেত্রেও একই কথা।
  • সার্চ এন্জিনের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস সেরা না হলেও খুবই ভাল। দুয়েকটা প্লাগইনের মাধ্যমে ওয়ার্ডপ্রেসকে সহজেই সার্চ এন্জিন বান্ধব করা যায়। বলা হয় ওয়ার্ডপ্রেসে তৈরী করা একটি সাইট সার্চ এন্জিনে উঠতে দুমাসের বেশি লাগে না।
  • বহুভাষার সাইট তৈরী করা যায়।

ওয়ার্ডপ্রেসের অন্য দিকটা-

  • কন্টেন্ট ম্যানেজম্যান্ট সিস্টেমের পূর্ণ সুবিধা ওয়ার্ডপ্রেস দিতে পারেনা। সংস্করণ ৩ এ মেনু ম্যানেজম্যান্টের সুবিধা যোগ করা হলেও এটা অসম্পূর্ণ। অন্য কথায়- কন্টেন্টের উপর কন্ট্রোল বাজে রকমের।
  • ওয়ার্ড্রপ্রেস খুব বেশি থিম নির্ভর। অন্যভাবে বলা যায় ওয়ার্ডপ্রেস কিছু নিজে আর বাকিটা থিমে। এর ফাংশনগুলোর জন্য প্রায়শই বিশেষ থিম লাগে। যেমন, একটা ইকমার্স সাইট করতে হলে শুধু নির্দিষ্ট প্লাগইন ইন্সটল করলে চলবে না, থিমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা লাগবে অথবা একই কাজের উপযোগী থিম লাগবে, যেন তেন একটা দিয়ে হবে না।
  • ওয়ার্ডপ্রেস এই সীমাবদ্ধতার জন্য ব্লগ, ব্যক্তিগত সাইট ইত্যাদি তৈরী করা গেলেও পোর্টাল, সামাজিক সম্পর্কের সাইট ইত্যাদি তৈরি করা সহজ নয় । সিএমএস গুলো দিয়ে যে পরিধির সামাজিক সম্পর্কের সাইট করা যায়, তার তুলনায় ওয়ার্ডপ্রেস কিছুই না।
Total votes: 9

মন্তব্যগুলি

শরীফ উদ্দীন-এর ছবি
শরীফ উদ্দীন (not verified)
‌আগষ্ট 1, 2011 - 2:10পূর্বাহ্ন

আল-মামুন ভাই,
আপনার পোস্টটি চমৎকার হয়েছে। আপনার লিখার স্টাইলও যথেষ্ট গোছাল। আচ্ছা আমি যদি ওয়ার্ড প্রেস-এর থিম ডিজাইন শিখতে চাই তাহলে আমাকে কোন কোন বিষয়গুলো শিখতে হবে। প্লিজ একটু জানাবেন।

আলমামুন-এর ছবি
আলমামুন
‌আগষ্ট 1, 2011 - 7:20পূর্বাহ্ন

ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

থিম ডিজাইনের জন্য প্রথমতঃ ওয়ার্ডপ্রেস থিমের নাড়ি-নক্ষত্র জানা লাগবে।
এদুটো লিংক আপনার কাজে লাগতে পারে-
http://themeshaper.com/2009/06/22/wordpress-themes-templates-tutorial/
http://codex.wordpress.org/Theme_Development

আর সিএসএস তো বটেই।

থিম ডিজাইনের জন্য কোন ফ্রেমওয়ার্ক (যেমন জেনেসিস, থিসিস) ব্যবহার করা ভাল। এতে আপনি কোডিং এর চেয়ে ডিজাইনের পেছনে সময় দিতে পারবেন।

Post new comment

ব্যক্তিগত তথ্য-গোপন রাখা হবে। মন্তব্যে আপনার দেখাতে গ্রাবতার একাউন্টের সাথে জড়িত ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করুন।